জায়েদুল কবির ভাঙ্গি, আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর: | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 109 বার পঠিত
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, গাজীপুর-৩ আসনে ততই বাড়ছে নির্বাচনী উত্তাপ। জোটের সমীকরণে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বাদ পড়ায় এ আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে জয়ের হাল ছাড়তে নারাজ খেলাফত মজলিস, স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে তাঁরা মাঠপর্যায়ে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ফলে বহুদলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গাজীপুর-৩ আসনের ভোটের পরিবেশ হয়ে উঠেছে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
দলীয় ঐক্যের মাধ্যমে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, “এটি শুধু আমার ব্যক্তিগত প্রার্থিতা নয়, এটি গাজীপুর-৩ আসনের বিএনপির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমি সম্মানের সঙ্গে দেখছি। নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছ থেকে যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী।”
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলন (ঘোড়া), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তথা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক (রিকশা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন (হাতপাখা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত আশিকুল ইসলাম পিয়াল (মই), জাতীয় পার্টির মো. নাজিম উদ্দিন (লাঙ্গল) এবং ইসলামী ঐক্যজোটের হাফেজ মাওলানা মুফতি শামীম আহমেদ (মিনার)।
ভোটারদের মতে, এ সাতজনের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ এহসানুল হক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইজাদুর রহমান মিলনের মধ্যে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান মিলনের বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ এহসানুল হক বলেন, “দ্বীন কায়েমের লক্ষ্যে জনগণ আমাদের প্রতীকেই ভোট দেবে।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলমগীর হোসাইন বলেন, “আমরা কোরআনের পক্ষে লড়াই করছি।” একই বক্তব্য দেন ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থীও।
তবে তৌহিদী জনতার একাংশের মতে, ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা পাওয়া কঠিন। তাঁদের ভাষ্য, “নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ভোট দেবে?”
বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে বৈঠক, গণসংযোগ এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তৃণমূল ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, স্বাধীনতার পর এই প্রথম শ্রীপুর উপজেলা থেকে দলীয় প্রার্থী পেয়েছে বিএনপি। শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা, দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু মনোনয়ন পাওয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বিএনপি সূত্র জানায়, ডা. বাচ্চু একজন সজ্জন, নিরহংকারী ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে এলাকায় ব্যাপক পরিচিত। তাঁর মনোনয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া মিলছে।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের পাশে থাকায় দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে ডা. বাচ্চুর প্রতিই ভোটারদের আস্থা তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহিণী বলেন, “আমি সারাজীবন আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু আমার অসুস্থতার সময় ডা. বাচ্চু চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। তাই তিনি ভোট না চাইলেও আমার ভোট তাঁর প্রাপ্য।”
মজিদ মিয়া নামে এক বৃদ্ধ বলেন, “করোনাকালে তিনি আমার পরিবারের পাশে ছিলেন। দল নয়, মানুষ হিসেবেই তাঁকে ভোট দেব।”
রমজান আলী নামে আরেক ভোটার বলেন, “দল হিসেবে ইসলামপন্থীকে ভোট দিতে চাই। কিন্তু ব্যক্তি হিসেবে বাচ্চুই আমার ভোট পাবে।”
উল্লেখ্য, গাজীপুর-৩ সংসদীয় আসনে একটি পৌরসভা ও দুই উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬০ হাজার ১৯০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ১৮০টি এবং ভোটকক্ষ ৯৮৯টি।
Posted ৫:৪২ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah