অনলাইন ডেস্ক | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনামলে সিরিয়ায় প্রতিষ্ঠিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ সামরিক ঘাঁটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর ধরে চলা আলোচনার পর খেমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটিকে আগামী তিন মাসের মধ্যে ‘যৌথ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা-বৃদ্ধি কেন্দ্রে’ রূপান্তরের বিষয়ে মস্কো ও দামেস্ক সমঝোতায় পৌঁছেছে।
রোববার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানায়, নতুন সমঝোতা অনুযায়ী ঘাঁটি দুটির বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে দামেস্ক। আলোচনার পুরো সময়জুড়েই ঘাঁটি দুটি কার্যক্রম চালিয়ে গেছে।
এরই মধ্যে খেমেইমিম ঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত লাতাকিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার কাজ শুরু করেছে সিরিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের প্রধান ওমর আল-হাসরি বলেছেন, বিমানবন্দরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সিরিয়ার বিমানবন্দরগুলো পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’। একই সঙ্গে বিমানবন্দরটি সংস্কারের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, চুক্তির আওতাভুক্ত স্থাপনাগুলো সরাসরি পরিদর্শন করেছেন সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি। তবে এ বিষয়ে এখনো রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সিরিয়ার ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে বাশার আল-আসাদ সরকারের অন্যতম প্রধান সামরিক ও রাজনৈতিক মিত্র ছিল রাশিয়া। ২০২৪ সালে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় মস্কোর প্রভাব বড় ধরনের ধাক্কা খায়। এরপরও সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপস্থিতির অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খেমেইমিম ও তারতুস ধরে রাখতে সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগী হয় মস্কো।
ক্ষমতা গ্রহণের পর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দুবার মস্কো সফর করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সিরিয়ার অখণ্ডতা রক্ষায় আল-শারার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
তবে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগের মধ্যেও মস্কোয় আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সিরিয়ায় ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে দামেস্ক। ফলে সামরিক ঘাঁটি নিয়ে সমঝোতার পাশাপাশি আসাদকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Posted ৬:১৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah