সঞ্জীব ভট্টাচার্য্য : | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 10 বার পঠিত
ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের মতো বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় সচেতনতামূলক প্রচারপত্র বিতরণ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার খড়মপুর মাজার শরীফের সামনে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও মাজারে আসা ভক্তদের মধ্যে এসব প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়। এ সময় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা ও এর সম্ভাব্য পরিণতি তুলে ধরে সবাইকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।
একই সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণরা যাতে কৌতূহল, দুষ্টুমি কিংবা অন্য কোনো কারণে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ না করে, সে বিষয়ে অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শাহ সৈয়দ আহম্মদ গেছু দারাজ (রহ.) প্রকাশ খড়মপুর মাজার শরীফ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাকদীর খাদেম, মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য কাজী শরীফ খাদেম, নয়াদিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এম এ জলিল, প্রেসক্লাবের সহসভাপতি জুটন বনিক, প্রিন্ট ও টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশু, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেল মিয়া, হাবিবুর রহমান, জুয়েল রানা, শামীম আহমেদ, ইসমাইল হোসেন, আশীষ সাহা, নিজাম উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেনসহ আরও অনেকে।
কর্মসূচির সমন্বয় করেন শুভসংঘ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপদেষ্টা ও কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
তারা আরও বলেন, বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে অনেক সময় কৌতূহল কিংবা দুষ্টুমির বশে ট্রেনে পাথর ছোড়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড যে মুহূর্তেই বড় দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির কারণ হতে পারে, সে বিষয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাদের সচেতন করতে হবে।
এদিকে খড়মপুর মাজার শরীফের ওরসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ আখাউড়ায় সমবেত হন। এবারও ওরসকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক ভক্তের আগমন ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ সময় রেলপথ ও রেলযাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমন প্রেক্ষাপটে বসুন্ধরা শুভসংঘের ট্রেনে পাথর নিক্ষেপবিরোধী এ সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা বলেন, খড়মপুর মাজার শরীফের আশপাশ দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। প্রচারপত্র বিতরণের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ভয়াবহতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে।
Posted ৩:০৫ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৯ আগস্ট ২০২৬
brahmanbaria2usa.com | Dulal Miah